২৬ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, ০১:৩৪:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তিন মাসে কোনো উ`ন্নয়ন করেনি তিন প্রতিষ্ঠান
  • আপডেট করা হয়েছে : ২৬-১০-২০২৬
তিন মাসে কোনো উ`ন্নয়ন করেনি তিন প্রতিষ্ঠান

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। করোনা মহামারির সময়েও এর চেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এডিপির বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৭ কোটি টাকা। এ সময়ে তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কোনো অর্থই ব্যয় করতে পারেনি। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ২ শতাংশেরও নিচে।


গতকাল রোববার বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের এডিপি বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ১৭ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ।


আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল।


অর্থাৎ, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমেছে ১ দশমিক ২০ শতাংশ। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি উন্নয়ন ব্যয়ের গতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


সেপ্টেম্বরেও কমেছে বাস্তবায়নের গতি: একক মাস হিসাবেও এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই মাসে এ হার ছিল ২ দশমিক ৭০ শতাংশ। অর্থাৎ, অর্থবছরের তৃতীয় মাসেও আগের বছরের তুলনায় বাস্তবায়নের হার কমেছে।


এডিপির অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থ ব্যয়ের হার বিদেশি ঋণের তুলনায় বেশি। প্রথম তিন মাসে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৫৮ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ৪ দশমিক


২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, বিদেশি ঋণ থেকে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।


তিন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় শূন্য: অর্থবছরের প্রথম তিন মাস পার হলেও এডিপির বরাদ্দ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলো হলো সেতু বিভাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৯৩৬ কোটি টাকা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১৮৫ কোটি টাকা। অর্থবছরের এক-চতুর্থাংশ সময় পার হলেও এসব সংস্থার কোনো অর্থ ব্যয় না হওয়ায় উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


এ ছাড়া পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নামমাত্র অর্থ ব্যয় করেছে। এগুলো হলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।


টাকার অঙ্কে এগিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ: প্রথম তিন মাসে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রতিবেদনে এ বিভাগের ব্যয় ৩৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্যয়ের অঙ্ক ও বাস্তবায়নের হারের মধ্যে অসংগতি রয়েছে। তাই এ তথ্য মূল প্রতিবেদন থেকে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।


টাকার অঙ্কে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ বিভাগের ব্যয় হয়েছে ২৯ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। তবে মোট বরাদ্দের তুলনায় ব্যয়ের হার ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্যদিকে, বাস্তবায়নের হারের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে সংসদবিষয়ক সচিবালয়। প্রথম তিন মাসে সংস্থাটির এডিপি বাস্তবায়নের হার ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, আইন ও বিচার বিভাগের ১৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বাস্তবায়নের হার ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ।


স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবায়ন ২ শতাংশেরও কম: এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্য খাত। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রয়েছে ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রথম তিন মাসে ব্যয় হয়েছে ১৯৭ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে এ ব্যয় মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্যদিকে, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের বরাদ্দ ৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগটি ব্যয় করেছে ১০২ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে এ ব্যয় মোট বরাদ্দের ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।


স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগেই এডিপি বাস্তবায়নের হার ২ শতাংশের নিচে থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি থাকলে পরবর্তী সময়ে বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে। এতে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সামগ্রিকভাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার গত কয়েক বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয় শূন্য থাকা এবং স্বাস্থ্য খাতের ধীরগতি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গতি ফেরানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।




শেয়ার করুন